শিরোনাম:

বীমা ও বঙ্গবন্ধু একই সূত্রে গাঁথা:  নিমাই কুমার সাহা, সিইও, সন্ধানী লাইফ

ইনস্যুরেন্স নিউজ বাংলা ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২৪


বীমা ও বঙ্গবন্ধু একই সূত্রে গাঁথা। বলেছেন, সন্ধানী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিঃ-এর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিমাই কুমার সাহা। নিমাই কুমার সাহা ১৯৬৫ সালে নড়াইলে সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সরকারি জগন্নাথ কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে বাণিজ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

লাইফ ইনস্যুরেন্স সেক্টরে আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং কন্ট্রোলারশিপ ফাংশনে তার রয়েছে ৩৪ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা।

নিমাই কুমার সাহা বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের লাইফ টেকনিক্যাল সাব-কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যান্য পেশাদার সংশ্লিষ্ট সংস্থা দ্বারা আয়োজিত বিভিন্ন সেমিনার, কর্মশালা এবং প্রশিক্ষণে বিভিন্ন সময়ে অংশ নেন তিনি। সক্রিয়ভাবে অসংখ্য সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন নিমাই কুমার সাহা।

১ মার্চ জাতীয় বীমা দিবস উপলক্ষে ইনস্যুরেন্স নিউজ বাংলার বিশেষ আয়োজন  “মুখ্য নির্বাহীদের দৃষ্টিতে জাতীয় বীমা দিবস উপলক্ষ্যে দেয়া সাক্ষাৎকারে সন্ধানী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিঃ-এর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিমাই কুমার সাহা বীমা সম্পর্কে নানা দিক তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করছেন ইনস্যুরেন্স নিউজ বাংলা'র সম্পাদক এম এম রহমতুল্লাহ।

ইনস্যুরেন্স নিউজ বাংলা: ব্যাংক ও বীমা  দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক খাত। সেক্ষেত্রে বীমা খাতে জাতীয় দিবস পালিত হচ্ছে। বীমা কোম্পানীর মূখ্য নির্বাহী হিসেবে বীমা দিবস নিয়ে আপনার অনুভূতি কি?

নিমাই কুমার সাহা: বীমা ও বঙ্গবন্ধু একই সূত্রে গাঁথা। স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনৈতিক বিশেষ প্রয়োজনে ১৯৬০ সালের ১লা মার্চ তৎকালীন আলফা ইনস্যুরেন্স কোম্পানীতে যোগদানের মাধ্যেমে বীমাকে পেশা হিসাবে গ্রহন করেছিলেন। চাকুরীর সুবাদে বীমার সাথে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সংশ্লিষ্টতার জন্য এবং বীমা শিল্পকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে মহান এই নেতার চাকুরীর যোগদান তারিখকে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে স্মরণীয় করে রাখতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০২০ সালের ১৫ই জানুযারী সিদ্ধান্ত নেন, ১লা মার্চ জাতীয় বীমা দিবস হিসাবে পালিত হচ্ছে। বর্তমানে এই দিবসটি 'ক' শ্রেণীর জাতীয় দিবস হিসাবে উদযাপিত হয়। এদিবস উদযাপনের ফলে বীমা শিল্পের দ্রুত প্রচার, সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন হচ্ছে।

 

ইনস্যুরেন্স নিউজ বাংলা: যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বীমা দিবস পালিত হচ্ছে, তার বাস্তব প্রতিফলন কতটুক ঘটেছে বলে আপনি মনে করেন?

নিমাই কুমার সাহা: বীমা কোম্পানীগুলো স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রযুক্তির সুবিধা নিতে পারে এবং স্মার্ট পরিষেবাগুলোর  মাইলফলক স্থাপনের মাধ্যমে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার পরিবর্তন করতে পারে । আইটি অবকাঠামো উন্নয়ন, অ্যাপস ভিত্তিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম সস্প্রসারণ, কাষ্টমাইজড ওয়েবপেজ সমাধান প্রস্তুত করা, ডিজিটাল ঝুঁকি মূল্যায়ন, আন্ডাররাইটিং, দাবী গ্রহণ ও প্রদান, ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ে (MFS/BEFTN) এর পূর্ণ ব্যবহার, এজেন্টদের জন্য ডিজিটাল বিক্রয়/বিপনন কৌশল এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহন করে প্রতিযোগিতামূলক অগ্রসরমান বিশ্বে ব্যবসায়িক ভাবে সফল হয়ে টিকে থাকা সম্ভব । তবেই ২০২৪ এর বীমা দিবসের প্রতিপাদ্য  'করবো বীমা, গড়বো দেশ, স্মার্ট হবে বাংলাদেশ' সাফল্যমন্ডিত হবে বলে বিশ্বাস করি ।

 

ইনস্যুরেন্স নিউজ বাংলা: অতীতের তুলনায় বর্তমানে বীমার প্রতি সাধারণ মানুয়ের আস্থা ও বিশ্বাস বাড়ছে বলে করেন কি?

নিমাই কুমার সাহা: বাংলাদেশের ৩৫টি জীবনবীমা কোম্পানীসহ মোট ৮১টি বীমা কোম্পানীর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের জিডিপিতে বীমার অবদান প্রায় ০.৫০%। দীর্ঘদিনের বীমা সেক্টরের আস্থাহীনতার সংস্কৃতি থেকে আমরা বের হতে শুরু করেছি। ১৯৩৮ সালের ঔপনিবেশিক বীমা আইনের পরিবর্তে যুযোপযোগী ২০১০ এর বীমা আইন প্রণয়ন অন্যতম উদাহরণ। স্বতন্ত্র বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ' গঠন ও উল্লেখযোগ্য। '১লা মার্চ'কে 'ক' শ্রেনীর জাতীয় বীমা দিবস ৪৯৫টি উপজেলা, ৬৪টি জেলাসহ জাতীয় পর্যায়ে উদযাপন মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বাড়ছে বলে মনে করি। এতে করে প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে বীমা ক্ষেত্রের সেতুবন্ধে আবদ্ধ হচ্ছে। পলিসি সচল রাখার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ -Corporate Governance Guideline’2023 এবং Policyholder Protection Guideline’2024 সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করি।

 

ইনস্যুরেন্স নিউজ বাংলা: বীমা দাবি পরিশোধ বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন উল্লেখ করেন?

নিমাই কুমার সাহা: জীবনবীমার কিছু কোম্পানীর দাবি পরিশোধ যথাসময়ে না করতে পারাই বীমার প্রতি গ্রাহকদের আস্থাহীনতার বড় কারণ। এ কারনে দেশের মানুষের মধ্যে জীবনবীমা গ্রহনের হার দ্রুত বাড়ছে না। মানুষ মনে করে, ঝুঁকি দুর করতে গিয়ে আবার নতুন ঝুঁকি কেন নেব? বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ-এর ২০২৩ সালের সমাপ্ত ৩য় কোয়ার্টারের তথ্যানুযায়ী ৩৫টি জীবনবীমা কোম্পানীর মধ্যে ১৯টি কোম্পানী ৮০% ও তদুর্ধ্ব পর্যন্ত বীমা দাবী পরিশোধ করেছে। ৫টি কোম্পানী ৬০% থেকে ৭৯% পর্যন্ত বীমা দাবী পরিশোধ করেছে। অথচ ১১টি কোম্পানী ৬০% এর নীচে দাবী পরিশোধ করেছে এর মধ্যে ৬টি কোম্পানী একক সংখ্যায় দাবী পরিশোধ করেছে, যা সেক্টরের জন্য হতাশাজনক। কয়েকটি কোম্পানীতে সুশাসনের অভাবে দাবি পরিশোধে বিলম্ব করছে,যার ফলে এই সেক্টরের অগ্রযাত্রা ব্যহত হচ্ছে। অতি সম্প্রতি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ-কর্তৃক দাবি পরিশোধের প্রয়োজনীয় তথ্যাদির চেকলিষ্ট প্রণয়ন প্রক্রিয়াধীন, যা দ্রুত দাবি নিষ্পত্তিতে যুগান্তকারী ফলাফল পাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করি। এছাড়া বীমার মেয়াদপূর্তির ১ (এক) মাস পূর্বে ইন্টিমেশন প্রদান করা হলে দাবি  নিষ্পত্তি দ্রুত হবে, যা বীমা গ্রাহক সন্তুষ্টি বৃদ্ধি করবে এবং বীমা শিল্পের প্রসার হবে।

 

ইনস্যুরেন্স নিউজ বাংলা: সর্বশেষ তথ্যানুয়ায়ী আপনার প্রতিষ্ঠানের সর্বমোট বিক্রিত পলিসির সংখ্যা, গ্রাহকের সংখ্যা, পরিশোধিত দাবির সংখ্যা ও টাকার পরিমাণ, দাবি নিষ্পত্তির হার, লাইফ ফান্ড, বর্তমান বিনিয়োগ কত?

নিমাই কুমার সাহা: ২০২৩ সালের সমাপ্ত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী (অনিরিক্ষীত) তথ্যাবলীঃ

বিক্রিত পলিসির সংখ্যা ৩৪,১৬৯ টি

গ্রাহকের সংখ্যা ৩,১০,৭২৫ জন

পরিশোধিত দাবীর সংখ্যা ৫১,৩৯৫টি

পরিশোধিত দাবির টাকা  ২০৮,২২,৭৫,৫৫৮/- টাকা

দাবি নিষ্পত্তির হার ৯৮.৯৮%

লাইফ ফান্ড ৭১০,২৫,৯৩,৫৩৪/- টাকা

বর্তমান বিনিয়োগ ৭৬৩,৫৭,২৮,৯২৪/- টাকা।