শিরোনাম:

অর্থনীতির ছাত্র মাহমুদ আলী রাজনীতিতে আসার আগে ছিলেন পেশাদার কূটনীতিক

অর্থমন্ত্রীর ভার পেলেন আবুল হাসান মাহমুদ আলী

নিজস্ব রিপোর্ট জানুয়ারী ১৩, ২০২৪


ইন্স্যুরেন্স নিউজ বাংলা ডেস্ক: গতিহারা অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করাই যখন আওয়ামী লীগের নতুন সরকারের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ মনে করা হচ্ছে, তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব তুলে দিলেন তার আস্থাভাজন আবুল হাসান মাহমুদ আলীর হাতে।
অর্থনীতির ছাত্র মাহমুদ আলী রাজনীতিতে আসার আগে ছিলেন পেশাদার কূটনীতিক। তার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে শিক্ষকতাও করেছেন কিছুদিন।
এখন এমন এক সময়ে তাকে সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাল ধরতে হচ্ছে যখন রেকর্ড মূল্যস্ফীতিতে জনজীবনে কষ্ট বেড়েছে, ডলারের দর আর রিজার্ভ সঙ্কট হয়ে উঠেছে সরকারের বড় মাথাব্যথা। আর্থিক ও ব্যংক খাতে সুশাসনের জন্য সংস্কারের আহ্বান অনেক বেশি জোরালো হয়ে উঠেছে।
দিনাজপুর-৪ থেকে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত সাংসদ আবুল হাসান মাহমুদ আলী গত সরকারে না থাকলেও তার আগে দুইবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে নবগঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মাহমুদ আলী, ২০১৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিনি ওই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।
এরপর আওয়ামী লীগের নির্বাচনকালীন সরকারে মাহমুদ আলীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করেন শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ ফের সরকার গঠন করলে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পাঁচ বছর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মাহমুদ আলী। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সমুদ্রসীমা নির্ধারণী মামলার নিষ্পত্তি এবং ছিটমহল বিনিময় তার সময়েই হয়।
২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের নতুন মেয়াদে মন্ত্রিত্ব না পেলেও অর্থমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন মাহমুদ আলী।
৮১ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে টানা চতুর্থবার সাংসদ নির্বাচিত হয়ে এবার অর্থমন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন।
করোনাভাইরাস মহামারীর পর ইউক্রেইন যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিয়ে গেছে, সে কারণে ভুগতে হচ্ছে বাংলাদেশকেও। জটিল ওই সময়ে অর্থমন্ত্রীর ভূমিকায় আ হ ম মুস্তফা কামালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বার বার।
বয়স আর শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত কয়েক বছর বাজেট ঘোষণা ঘোষণার সময় খুব বেশি সাবলীল ছিলেন না মুস্তফা কামাল। সে সময় তার দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন গত সরকারে পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানো এম এ মান্নান।
সে কারণে অনেকের ধারণা ছিল, শেখ হাসিনার নতুন সরকারে এবার অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে মান্নানকে দেখা যতে পেরে। কিন্তু তাদের দুজনই শেষ পর্যন্ত বাদ পড়েছেন।
বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নতুন মন্ত্রীদের তালিকা প্রকাশের পর সেখানে কিছুটা চমক হিসেবেই আবুল হাসান মাহমুদ আলীর নাম আসে। গত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে এ মোমেন বাদ পড়ায় অনেকে ধারণা করেছিলেন, সেই দায়িত্বে হয়ত মাহমুদ আলীকে ফেরাবেন শেখ হাসিনা। কিন্তু আরেক চমক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এবার তাকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিলেন।
১৯৪৩ সালের ২ জুন দিনাজপুরের খানসামার ডাক্তারপাড়া গ্রামে জন্ম নেওয়া আবুল হাসান মাহমুদ আলী ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে বিএ এবং ১৯৬৩ সালে এমএ করেন। এরপর ১৯৬৪ সালে নিজের শিক্ষায়তনে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।
১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে মাহমুদ আলী যোগ দেন তৎকালীন পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে। মুক্তিযুদ্ধের সময় কূটনৈতিক ফ্রন্টে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
কূটনৈতিক দায়িত্ব নিয়ে ১৯৬৮ সালে নিউ ইয়র্কে যাওয়ার পর থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাঙালিদের উদ্বুদ্ধ করছিলেন। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে তিনি পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দেন এবং ওই বছর মে মাসে মুজিবনগরে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত হন।
মাহমুদ আলী মুজিবনগর সরকারের বিদেশ প্রতিনিধি প্রধান এবং ১৯৭১ সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান বিচারপতি আবু সায়িদ চৌধুরীর নির্বাহী সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকারের হয়ে বিভিন্ন মিশনে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন মাহমুদ আলী। বেইজিংয়ে রাষ্ট্রদূতের পদমর্যাদায় উপমিশন প্রধান; ভুটান, অস্ট্রিয়া, চেক রিপাবলিক, জার্মানি ও নেপালে রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাজ্যে হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই আয়ারল্যান্ডে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রদূত।
ঢাকায় অতিরিক্ত পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে তিনি ১৯৯২ সালে ভারতের সাথে তিন বিঘা করিডোর বাস্তবায়ন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। একই বছর মিয়ানমারের শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের আলোচনায় যোগ দেন।
২০০১ সালের এপ্রিল মাসে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর মাহমুদ আলী আওয়ামী লীগে যোগ দেন।